Search This Blog

লেবেল

Nowrin Akter

Most Popular

ট্রাম্পের পাল্টা জবাবের হুমকির পর ইরানে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা

Donald Trump Warns Iran After US Military Helicopter Incident


মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, টহলরত একটি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ইরান ভূপাতিত করেছে। এই ঘটনার জবাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে টহল দেওয়ার সময় ইরানিরা আমাদের একটি অত্যন্ত আধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। হেলিকপ্টারে থাকা দুই পাইলট নিরাপদ ও অক্ষত রয়েছেন। তবে এই ঘটনার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া এখন অপরিহার্য।”

এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো মার্কিন সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, ওমান উপকূলের কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। পরে উদ্ধারকারী দল দুই পাইলটকে নিরাপদে উদ্ধার করে।

ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইরান ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ হওয়ার পর তিনি এ বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছিলেন। তবে হেলিকপ্টার ঘটনার পর পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্প বলেন, “আমরা একটি অসাধারণ চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে আছি। এই চুক্তি কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেবে না।” তিনি আরও দাবি করেন, চুক্তি সম্পন্ন হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হতে পারে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে “চূড়ান্ত বিজয়” ঘোষণা করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের সেনাপ্রধান আইয়াল জামির জানিয়েছেন, নির্দেশ পেলেই ইসরায়েল আবারও ইরানে শক্তিশালী সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত রয়েছে। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই জলপথের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে অঞ্চলটির যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি বৈশ্বিক তেল ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি জানিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা বিনিময় করছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই সংকটের জন্য সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছেন। তাঁর ভাষ্য, যুদ্ধবিরতি রক্ষার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রেরও ছিল, তাই পরিস্থিতির অবনতির দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির এই ঘটনা শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ককেই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।