Search This Blog

লেবেল

Nowrin Akter

Most Popular

কেমন হলো ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেট? সাধারণ মানুষের জন্য যা থাকছে

 ১১ জুন ২০২৬ |


আজ ১১ জুন ২০২৬, আমাদের নতুন অর্থাৎ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট ঘোষণা করা হলো। বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সেই ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের পর, এটিই নির্বাচিত নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। স্বাভাবিকভাবেই এই বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কৌতূহল আর প্রত্যাশা দুটোই ছিল আকাশচুম্বী।

এবারের বাজেটের মূল থিম বা স্লোগান হলো—"অর্থনৈতিক গণতন্ত্রীকরণ ও নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ: ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে বাংলাদেশের যাত্রা"। অর্থাৎ, দেশের অর্থনীতিকে একটা বড় রূপান্তর বা ট্রিলিয়ন ডলারের দিকে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে সরকার।

চলুন সহজ ভাষায় জেনে নেওয়া যাক, এবারের বাজেটে আমাদের জন্য ঠিক কী কী থাকছে।

💰 বাজেটের আকার ও আয়-ব্যয়ের হিসাব

সহজ কথায় বলতে গেলে, আগামী এক বছর দেশ চালাতে সরকারের কত খরচ হবে এবং সেই টাকা কোথা থেকে আসবে, তারই একটা হিসাব এটি।

  • মোট খরচ (বাজেট): সরকার আগামী অর্থবছরে মোট ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকা খরচের পরিকল্পনা করেছে। এটি দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট।

  • সরকারের আয়: এই বিশাল খরচের বিপরীতে সরকারের আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬.৯৫ লাখ কোটি টাকা। (যার সিংহভাগই আসবে এনবিআর বা ট্যাক্স থেকে)।

  • বাজেট ঘাটতি: আয় আর খরচের মধ্যে একটা বড় গ্যাপ বা ঘাটতি থেকে যাচ্ছে, যার পরিমাণ প্রায় ২.৪৩ লাখ কোটি টাকা

🏦 এই ঘাটতির টাকা কোথা থেকে আসবে?

খরচের তুলনায় আয় কম হওয়ায় সরকার এই ঘাটতি পূরণ করবে মূলত দুইভাবে: ১. দেশি ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিয়ে (১.১২ লাখ কোটি টাকা) ২. বিদেশি ঋণ ও অনুদানের মাধ্যমে (১.০৯ লাখ কোটি টাকা) ৩. বাকিটা আসবে সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য খাত থেকে।

🎯 এবারের বাজেটে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে কোন বিষয়গুলোতে?

বিগত বছরগুলোতে দেখা যেত বড় বড় রাস্তাঘাট বা মেগা প্রজেক্টে সবচেয়ে বেশি টাকা ঢালা হতো। কিন্তু এবারের বাজেটে একটা বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। এবার ভৌত অবকাঠামোর চেয়ে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও মানবসম্পদ তৈরিতে বেশি নজর দেওয়া হয়েছে।

  • শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান: তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মান বাড়াতে এবার সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

  • মূল্যস্ফীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা: বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের যে দাম, তা থেকে সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও বড় করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার (কৃষক) কার্ডের সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে।

  • ই-হেলথ কার্ড (E-Health Card): স্বাস্থ্য খাতে একটা চমৎকার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ২৫ লক্ষ নাগরিককে একটি করে ডিজিটাল হেলথ কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার সুবিধা পাওয়া যাবে।

  • পুরনো ঋণ পরিশোধ: বিগত বছরগুলোর অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ মেটাতেই এবার সরকারের একটা বড় অঙ্কের টাকা (১.২৭ লাখ কোটি) চলে যাচ্ছে।

💼 ব্যবসা-বাণিজ্য ও ট্যাক্সে কী পরিবর্তন আসছে?

ব্যবসা করা আরও সহজ করতে এবং দেশের উৎপাদন খাতকে চাঙ্গা করতে কিছু ক্ষেত্রে কর বা ট্যাক্স কমানোর সুখবর দেওয়া হয়েছে:

  • পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি খাতের ক্যাশ অ্যাসিস্ট্যান্স বা নগদ সহায়তার ওপর ট্যাক্স ১০% থেকে কমিয়ে ৫% করা হয়েছে।

  • আমাদের দেশি শিল্পগুলোর কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর (AIT) ৫% থেকে কমিয়ে ৪% করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

  • প্যাকেজিং শিল্পের সুবিধার জন্য উৎসে কর ৫% থেকে কমিয়ে ৩% করা হচ্ছে।

💬 শেষ কথা

আজকে যে বাজেটটি পেশ করা হলো, এটি কিন্তু এখনো চূড়ান্ত নয়। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সংসদে এটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক হবে। এরপর কিছু ছোটখাটো পরিবর্তন এনে এটি পাস করা হবে এবং ১ জুলাই ২০২৬ থেকে পুরো দেশে কার্যকর হবে।

নতুন সরকারের এই বিশাল বাজেট কি পারবে সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর চাপ কমাতে? নাকি ঋণের বোঝা আরও বাড়বে? আপনার কী মনে হয়?

নিচের কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত আমাদের সাথে শেয়ার করুন! ভালো লাগলে পোস্টটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না।